ময়মনসিংহUrbanHive
চীন থেকে আনা ব্যাগ, জুতা ও পোশাকের সংগ্রহ। কালেকশন ও পণ্যের বিস্তারিত জানতে ফেসবুক পেজটি দেখুন।
কালেকশন দেখুন facebook.com
ময়মনসিংহচীন থেকে আনা ব্যাগ, জুতা ও পোশাকের সংগ্রহ। কালেকশন ও পণ্যের বিস্তারিত জানতে ফেসবুক পেজটি দেখুন।
কালেকশন দেখুন ↗facebook.comচেনা কিছু দৃশ্য, হারিয়ে যাওয়া কিছু বিকেল। এর মাঝে আপনার গল্পটাও হয়তো লুকিয়ে আছে।
বিকেলের রোদ একটু নরম হলেই মাঠে জমত ছোট্ট একটা দল। কারও পায়ে স্যান্ডেল, কেউ খালি পায়ে। খেলা বাছতে গিয়েই অর্ধেক সময় ঝগড়া—কানামাছি হবে, নাকি দাঁড়িয়াবান্ধা? শেষে কারও চোখে গামছা বেঁধে শুরু হতো সেই চেনা ছড়া, “কানামাছি ভোঁ ভোঁ…”।
চোখ বাঁধা বন্ধুর পাশ দিয়ে নিঃশব্দে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেও হাসি চাপা যেত না। একজন ধরা পড়লে আরেকজন বলত, গামছার ফাঁক দিয়ে দেখেছে! বিচার করার জন্য কোনো রেফারি ছিল না; ছিল অনেক তর্ক, তারপর আবার খেলা। সন্ধ্যার ডাক আসার পরও আবদারটা একই—আর পাঁচ মিনিট।
ঘড়ির পাঁচ মিনিট আর ছোটবেলার পাঁচ মিনিট এক ছিল না। সেই পাঁচ মিনিটে আরও একবার দৌড়ানো যেত, আরও একবার ধরা পড়া যেত, হারানো খেলাটাও জিতে নেওয়া যেত। মাঠ ছোট ছিল, কিন্তু বিকেলগুলো যেন অনেক বড়।
আপনাদের পাড়ায় কোন খেলাটা নিয়ে সবচেয়ে বেশি তর্ক হতো?
আপনার স্মৃতিটাও লিখুন ↗নানিবাড়ির রাতের একটা আলাদা আয়োজন ছিল। খাওয়া শেষ, মশারি টাঙানো, বালিশ নিয়ে টানাটানি—তারপর গল্পের আবদার। নানি হয়তো বলতেন, আজ আর গল্প মনে নেই। সেই কথার পরই কোথা থেকে হাজির হতো এক টুনটুনি, এক চালাক শেয়াল, কিংবা সাত সমুদ্র পেরোনো কোনো রাজকন্যা।
একই গল্প আগেও শোনা, তবু কেউ আপত্তি করত না। বরং কোথাও একটু বদলে গেলে প্রশ্ন উঠত, গতবার তো এমন ছিল না! নানি হাসতেন। গল্পের মাঝখানে বাইরে পাতা নড়লেও মনে হতো, কোনো চরিত্র বুঝি উঠোন পেরিয়ে আসছে। ভয় পেলে সবাই আরেকটু কাছে সরে যেত।
কখন যে গল্প থেকে ঘুমে চলে যাওয়া, তা টের পাওয়া যেত না। পরদিন সকালে মনে থাকত গল্পের অর্ধেক আর কণ্ঠস্বরের পুরোটাই। অনেক বড় হয়ে বুঝতে হয়, গল্প শুধু কী ঘটেছিল তার নাম নয়; কে পাশে বসে শুনিয়েছিলেন, সেটাও গল্পের অংশ।
নানি বা দাদির মুখে শোনা কোন গল্পটা এখনও মনে আছে?
আপনার স্মৃতিটাও লিখুন ↗পাখাটা থেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চারদিক থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস উঠত। বইয়ের ওপর আলো পড়ছে না, গরমে বসাও যাচ্ছে না। একটু পরেই কেউ হারিকেন আনত, কেউ মোমবাতি। গরমের রাতে অনেক বাড়িতেই সবাই উঠোনে, বারান্দায় বা ছাদে এসে বসত।
বড়দের গল্পের পাশে ছোটদের আরেক জগৎ। কেউ হাতের ছায়ায় দেয়ালে পাখি বানাত, কেউ আকাশের তারা গুনতে গুনতে হিসাব হারিয়ে ফেলত। চাঁদের আলো থাকলে চোর-পুলিশের দলও তৈরি হয়ে যেত। অন্ধকারে একটু দূরের মানুষকেও রহস্যময় লাগত; পরিচিত গাছটার ছায়া হতো একেবারে অন্য রকম।
বিদ্যুৎ ফিরে এলে কারও মুখে স্বস্তি, কারও মুখে খেলা থামার আক্ষেপ। আলো নিভে থাকা যে কষ্টের ছিল, তা ভুলে যাওয়ার নয়। তবু সেই ফাঁকে পাশাপাশি বসা, হাতপাখার বাতাস ভাগ করে নেওয়া আর বিনা তাড়ায় গল্প করার সময়টুকু মনে থেকে যায়।
লোডশেডিংয়ের সময় আপনারা ছাদে বসতেন, নাকি উঠোনে খেলতেন?
আপনার স্মৃতিটাও লিখুন ↗টিফিনের ঘণ্টা পড়লে ক্লাসের গম্ভীর চেহারা মুহূর্তে বদলে যেত। বেঞ্চের ওপর খুলে বসত ছোট ছোট বাক্স। কারও পরোটা, কারও রুটি, কারও মুড়ি। নিজের খাবারের চেয়ে পাশের বন্ধুর বাক্সে কী আছে, সেই কৌতূহলটাই যেন বেশি ছিল।
ভাগাভাগিরও অলিখিত নিয়ম থাকত। এক টুকরো পরোটার বদলে অর্ধেক ডিম, এক মুঠো মুড়ির বদলে আচারের একটু ঝোল। কোনো দিন টিফিন না আনলে পাশ থেকে একটা হাত এগিয়ে আসত। খুব বড় কথা বলে নয়—“এই নে, খা” বলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যেত।
তারপর মাঠে দৌড়, ঘণ্টা বাজলে তাড়াহুড়া করে হাত ধোয়া, আর ক্লাসে ফিরে হাসি সামলানো। তখন খাবারের দাম কিংবা পুষ্টির হিসাব জানা ছিল না। জানা ছিল, বন্ধুর পাশে বসে খেলে সাধারণ একটা রুটিও অন্য রকম ভালো লাগে।
আপনার স্কুলের টিফিনে সবচেয়ে বেশি কী থাকত?
আপনার স্মৃতিটাও লিখুন ↗নতুন জামাটা বারবার বের করে দেখা, আবার যত্ন করে ভাঁজ করে রাখা। জুতার বাক্সটাও কাছে চাই। ঈদের আগের রাতে মনে হতো, সকালটা হতে এত দেরি হচ্ছে কেন? বাড়ির রান্নাঘরে তখন ব্যস্ততা, কোথাও মেহেদি দেওয়ার আসর, কোথাও শেষ মুহূর্তের ইস্ত্রি।
সকালে তাড়াতাড়ি উঠে তৈরি হওয়ার উত্তেজনাটাই আলাদা। সেমাইয়ের ঘ্রাণ, সালামি রাখার ছোট পকেট, বন্ধুদের সঙ্গে কার জামা কেমন হলো তা দেখা। সালামির টাকা গুনতে গুনতে একই নোট বারবার বের হতো। সেই টাকা দিয়ে কী কেনা হবে, তার পরিকল্পনাও বদলাত বারবার।
সব বাড়ির ঈদ এক রকম ছিল না, সবার নতুন জামাও হতো না। তবু কারও দরজায় গিয়ে কুশল জিজ্ঞেস করা, একটু খাবার ভাগ করে নেওয়া আর একসঙ্গে হাসার মধ্যে আনন্দ ছড়িয়ে পড়ত। বড় হয়ে ঈদ ফিরলেও, সেই অপেক্ষার রাতটা আর ঠিক আগের মতো ফিরে আসে না।
ছোটবেলার ঈদে পাওয়া কোন জিনিসটা আপনার সবচেয়ে প্রিয় ছিল?
আপনার স্মৃতিটাও লিখুন ↗টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ বাড়তে থাকলে জানালার পাশে ভিড় জমত। উঠোনে বা গলিতে পানি জমেছে কি না, সেই খোঁজ। একটু পরেই পুরোনো খাতার পাতা নিয়ে নৌকা বানানোর আয়োজন। কারও ভাঁজ নিখুঁত, কারও নৌকা দাঁড়ানোর আগেই কাত হয়ে যায়।
পানিতে নামিয়ে দিলেই কাগজের নৌকাটা খুব জরুরি এক যাত্রায় বেরিয়ে পড়ত। হাত দিয়ে ঢেউ দেওয়া চলবে কি না, তা নিয়েও নিয়ম বানানো হতো। কোনো নৌকা আটকে গেলে কাঠি দিয়ে আলতো ঠেলা। কোনোটা ভিজে বসে গেলে হতাশা, তারপর আবার নতুন একটা পাতা খোঁজা।
দূরে যাওয়ার অর্থ তখন খুব ছোট ছিল—উঠোনের এক পাশ থেকে আরেক পাশ। তবু সেই নৌকার পেছনে চোখ রেখে মনে হতো, অচেনা কোনো দেশে চলে যাচ্ছে। বৃষ্টি থেমে গেলে ভেজা কাগজ পড়ে থাকত; পরের বৃষ্টিতে আবার যাত্রা শুরু হবে, এই বিশ্বাসটা থাকত আরও অনেকক্ষণ।
কাগজের নৌকা বানানোর ভাঁজগুলো এখনও মনে আছে?
আপনার স্মৃতিটাও লিখুন ↗