গল্পে চলে যাই
✳ আমার শৈশব
নীতিগল্প৩ মিনিট পড়া১ বার পড়া হয়েছে

কচ্ছপ ও খরগোশের দৌড়

গতি ছিল খরগোশের, কিন্তু থামল না কচ্ছপ। শেষ হাসি হাসল কে?

এই গল্পের শিক্ষা ↓

বনের খরগোশ নিজের দৌড়ের গতি নিয়ে খুব গর্ব করত। অন্য কেউ একটু ধীরে চললেই হাসাহাসি করত সে। এক সকালে কচ্ছপকে পথ পার হতে দেখে আবার ঠাট্টা শুরু করল। কচ্ছপ শান্ত স্বরে বলল, ধীরে চললেও সে নিজের গন্তব্যে পৌঁছায়।

কচ্ছপ তার কথায় রাগ করে ঝগড়া শুরু করল না। সে জানত, দ্রুত না চলতে পারা লজ্জার কিছু নয়। প্রত্যেক প্রাণীর শরীর আর চলার ভঙ্গি আলাদা। কিন্তু অন্যকে বারবার ছোট করা ঠিক নয়। তাই দৌড়ের কথা বলার সময় তার গলায় জেদ ছিল, অপমান ফিরিয়ে দেওয়ার তাড়া ছিল না।

খরগোশ কথাটি শুনে আরও হাসল। তখন কচ্ছপ তাকে একটি দৌড় প্রতিযোগিতার প্রস্তাব দিল। বনের বন্ধুরা পথ ঠিক করল—পুকুরের ধার থেকে পুরোনো বটগাছ পর্যন্ত। সবাই দেখতে এল। শুরু করার সংকেত পেতেই খরগোশ এক লাফে অনেকটা এগিয়ে গেল।

দৌড় শুরুর আগেই কচ্ছপ পথটি একবার ভালো করে দেখে নিয়েছিল। কোথায় পাথর, কোথায় শুকনো পাতা, কোথায় বাঁক—সেসব লক্ষ করল। খরগোশ এসব প্রস্তুতিকে সময় নষ্ট ভাবল। তার বিশ্বাস, এত দ্রুত দৌড়াতে পারে যে পথে কোনো সমস্যাই তাকে আটকে রাখতে পারবে না।

কচ্ছপ চলতে লাগল নিজের স্বাভাবিক গতিতে। তার চোখ পথের দিকে। খরগোশের মতো দ্রুত যাওয়ার ক্ষমতা তার নেই, কিন্তু যতটা পারে ততটাই নিয়মিত এগোতে পারবে। সে তাই অন্যের গতি মাপার বদলে নিজের পরের পদক্ষেপটির কথা ভাবল।

কিছু দূর গিয়ে কচ্ছপেরও ক্লান্ত লাগল। পথ শেষ হতে অনেক বাকি। তবু সে পুরো পথের দৈর্ঘ্য নিয়ে ভয় না পেয়ে সামনের ছোট বাঁক পর্যন্ত যাওয়ার কথা ভাবল। বাঁক পার হলে পরের ছায়াটুকু। এভাবে ছোট লক্ষ্য ধরে এগোলে কঠিন কাজের চাপটিও একটু কম মনে হয়।

অনেকটা এগিয়ে খরগোশ পেছনে তাকাল। কচ্ছপকে প্রায় দেখাই যায় না। সামনে ছায়াঘেরা গাছ দেখে সে ভাবল, একটু বিশ্রাম নিলে ক্ষতি কী! নরম ঘাসে শুয়ে পড়ল। প্রথমে চোখ বুজল, তারপর গভীর ঘুম। জয় যেন আগেই তার হাতে—এমনটাই ভেবেছিল সে।

গাছের ছায়ায় বাতাস ছিল ঠান্ডা, ঘাস ছিল নরম। খরগোশ মনে মনে হিসাব করল, কচ্ছপ আসতে অনেক দেরি করবে। কিন্তু অনুমানটি যাচাই করার প্রয়োজন মনে করল না। সে নিজের এগিয়ে থাকার অবস্থাটিকে কাজ শেষ করার সমান ভেবে বসেছিল। শেষ রেখা পার হওয়ার আগে যে জয় নিশ্চিত নয়, সেই কথাটিই ভুলে গেল।

এই সময় কচ্ছপ একইভাবে এগিয়ে চলছিল। খরগোশকে ঘুমাতে দেখেও সে থামল না, ঠাট্টাও করল না। পথের ছোট পাথর এড়িয়ে, ধীরে ধীরে সে বটগাছের কাছে পৌঁছে গেল। অন্য প্রাণীদের ডাক শুনে খরগোশের ঘুম ভাঙল।

বটগাছের কাছে পৌঁছে কচ্ছপ দূরের বন্ধুদের দেখতে পেল। কেউ তাকে ডাকছিল, কেউ অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিল। সে তখনও নিজের গতিতেই চলল। শেষ মুহূর্তের উত্তেজনায় পথ ছেড়ে তাকাল না। এতক্ষণ যে মনোযোগ তাকে এগিয়ে এনেছে, শেষ কয়েক পা হাঁটার সময়ও সেটিকে ধরে রাখল।

খরগোশ ছুটল প্রাণপণে। কিন্তু ততক্ষণে কচ্ছপ শেষ রেখা পার হয়ে গেছে। খরগোশের গতি কম ছিল না; তাকে হারিয়েছিল নিজের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস। আর কচ্ছপ জিতেছিল নিজের সীমা জেনে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ায়। প্রতিযোগিতা শেষে দুজনেই অন্যের সামর্থ্যকে সম্মান করতে শিখল।

এই গল্পের শিক্ষা

শুধু সামর্থ্য থাকলেই হয় না; নিয়মিত চেষ্টা ও কাজ শেষ করার মনোযোগ দরকার।

একটু ভেবে দেখি

তোমার কোন কাজটি প্রতিদিন অল্প অল্প করে এগিয়ে নিতে পারো?

প্রচলিত ঈশপের নীতিগল্পের নিজস্ব বাংলা পুনর্কথন।

গল্পের পাতায় অন্তত ১০ সেকেন্ড থাকলে পড়া হিসেবে গণনা হয়। একই ব্রাউজারে ৩০ মিনিটে একবার। এই ফিচার চালুর পর থেকে হিসাব।