বিজ্ঞাপন
আরও জানুন
ময়মনসিংহUrbanHive
চীন থেকে আনা ব্যাগ, জুতা ও পোশাকের সংগ্রহ। কালেকশন ও পণ্যের বিস্তারিত জানতে ফেসবুক পেজটি দেখুন।
কালেকশন দেখুন facebook.comনদীর বাঁকে পড়ে থাকা জমিটিতে আগে শুধু আগাছা হতো। শেয়াল একদিন বলল, জমি ফেলে না রেখে কিছু লাগানো যাক। কুমিরেরও উৎসাহ হলো। দুজন মিলে মাটি পরিষ্কার করল, বেড়া দিল, পানি আনার পথ বানাল। কাজের শুরুতে তাদের খুব মিল; সমস্যা বাধল ফসলের ভাগ ঠিক করার সময়।
এক কুমির আর এক শেয়াল মিলে চাষ করতে গেল। প্রথমবার তারা আলু লাগাল। কুমির ফসল সম্পর্কে ভালো করে না জেনেই বলল, গাছের ওপরের অংশ সে নেবে, নিচের অংশ শেয়ালের। শেয়াল রাজি হয়ে গেল।
শেয়াল তখন কুমিরকে বোঝাতে পারত, আলু গাছের কোন অংশে হয়। কিন্তু সে চুপ করে নিজের সুবিধাটুকু দেখল। কুমিরও ভাবল, ওপরের দিকে বেশি পাতা দেখা যাচ্ছে বলে তার ভাগ নিশ্চয়ই বড় হবে। দুজনের কেউই সমান পরিশ্রমের বদলে সমান প্রাপ্য নিয়ে খোলামেলা কথা বলল না।
ফসল তোলার দিন কুমির পেল শুধু পাতা আর ডাল। শেয়াল মাটি খুঁড়ে আলু তুলে নিল। কুমির রেগে ভাবল, পরেরবার আর এই ভুল করবে না। কিন্তু কেন ভুল হয়েছে, তা বুঝতে চাইল না।
কুমির খালি ডালপালা দেখে খুব লজ্জা পেল। সে মাঠে অন্য চাষিদের কাজ লক্ষ করল না, আলু কীভাবে হয় তাও জিজ্ঞেস করল না। শুধু মনে রাখল, আগা নিলে ক্ষতি হয়। একটি অভিজ্ঞতাকে সব ফসলের নিয়ম ধরে নিল সে। রাগের কারণে প্রশ্ন করার দরজাটিও নিজের হাতে বন্ধ করে দিল।
এবার তারা ধান লাগাল। কুমির আগেভাগেই নিচের অংশ দাবি করল। ধান পাকলে শেয়াল শিষভরা ওপরের অংশ কেটে নিয়ে গেল। কুমিরের ভাগে পড়ল গোড়া। আলুর নিয়ম ধানের বেলায় যে খাটে না, এবার তা টের পেল সে।
ধানের শিষ হাতে নিয়ে শেয়াল যখন বাড়ি ফিরছিল, কুমির তখন গোড়ার মাটি সরাচ্ছিল। মাটির নিচে কিছু না পেয়ে তার মুখ অন্ধকার হয়ে গেল। সে বুঝতে পারছিল না, পরিশ্রম তো করেছে, তবু লাভ হচ্ছে না কেন। আসলে আগের ঘটনার সঙ্গে নতুন কাজের পার্থক্যটি সে দেখেনি।
তৃতীয়বার লাগানো হলো আখ। কুমির আবার ওপরের অংশ নিল। শেয়াল মিষ্টি কাণ্ড নিয়ে গেল; কুমিরের হাতে রইল আগার পাতা। শেষে কুমির এমন অংশীদারির কাজ ছেড়ে দিল।
পেছন ফিরে ভাবলে দেখা যায়, কুমিরের সামনে আরও একটি সুযোগ ছিল। আখ লাগানোর আগে সে জানতে পারত, মিষ্টি রস কোথায় থাকে। কিন্তু নিজের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করার তাড়ায় সেই কথাও জিজ্ঞেস করল না। আর শেয়াল ভালো সঙ্গী হওয়ার বদলে আবারও সুযোগ নিল। কেবল চালাকি দিয়ে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা যে যায় না, সেও তা ভাবেনি।
শেয়ালের ঠকানো ঠিক হয়নি। আর কুমিরও বুঝল, শুধু আগের সিদ্ধান্ত উল্টে দিলেই হয় না—কাজটি বুঝে নেওয়া দরকার।
এই গল্পের শিক্ষা
সিদ্ধান্তের আগে জানো; অংশীদারির কাজে ন্যায্য ভাগও জরুরি।
একটু ভেবে দেখি
শেয়াল ন্যায্য ভাগ দিলে গল্পটির শেষ কেমন হতে পারত?
উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর বোকা কুমিরের কথা অবলম্বনে সহজ পুনর্কথন। এই বিস্তৃত পুনর্কথনে নতুন দৃশ্য ও সংলাপ যোগ করা হয়েছে।
মূল গল্প: বোকা কুমিরের কথা ↗গল্পের পাতায় অন্তত ১০ সেকেন্ড থাকলে পড়া হিসেবে গণনা হয়। একই ব্রাউজারে ৩০ মিনিটে একবার। এই ফিচার চালুর পর থেকে হিসাব।