গল্পে চলে যাই
✳ আমার শৈশব
নীতিগল্প৩ মিনিট পড়া০ বার পড়া হয়েছে

তৃষ্ণার্ত কাক ও কলসি

কলসিতে পানি আছে, কিন্তু ঠোঁট পৌঁছায় না। কাক কি হাল ছেড়ে দেবে?

এই গল্পের শিক্ষা ↓

গ্রীষ্মের এক দুপুরে একটি কাক খুব তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়ল। মাঠের ছোট জলাশয় শুকিয়ে গেছে। সে এক বাড়ির উঠোন থেকে আরেক উঠোনে উড়ে পানি খুঁজতে লাগল। অনেকক্ষণ খোঁজার পরে গাছের ছায়ায় একটি মাটির কলসি দেখতে পেল।

দূর থেকে চকচক করা একটি জায়গা দেখে সে একবার নেমেছিল। কাছে গিয়ে বোঝে, সেখানে পানি নয়, রোদ পড়েছে শুকনো মাটিতে। ক্লান্ত কাক আবার উড়ল। তৃষ্ণা তাকে তাড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছিল, তবু খোঁজা থামাল না। কোনো এক ছায়াঘেরা উঠোনে নিশ্চয়ই একটু পানি পাওয়া যাবে—এই আশাটুকু ধরে রাখল।

কাক কলসির মুখে বসে ভেতরে তাকাল। তলায় অল্প পানি ঝিলমিল করছে। সে ঠোঁট নামাল, গলা বাড়াল, কিন্তু পানির নাগাল পেল না। কলসির মুখ সরু, আর পানি অনেক নিচে। চোখের সামনে পানি পেয়েও খেতে না পেরে কাক আরও অস্থির হয়ে উঠল।

কলসির বাইরের গায়ে মাটির ঠান্ডা ছোঁয়া লেগে ছিল। ভেতরের পানি এত কাছে মনে হচ্ছিল যে কাক বারবার একইভাবে গলা বাড়াচ্ছিল। প্রতিবার ব্যর্থ হয়ে তার বিরক্তি বাড়ছিল। কিন্তু প্রয়োজন যত জরুরি হোক, একই অকার্যকর চেষ্টা কেবল বেশি জোরে করলেই ফল বদলায় না। এবার নতুনভাবে ভাবার প্রয়োজন হলো।

প্রথমে কলসিটি কাত করার চেষ্টা করল সে। কিন্তু কলসি ভারী; যতই ঠেলা দেয়, নড়ে না। কিছুক্ষণ পর কাক থামল। শুধু একই চেষ্টা করে গেলে লাভ নেই। চারপাশে তাকিয়ে দেখল, মাটিতে অনেক ছোট নুড়িপাথর ছড়িয়ে আছে।

চারপাশে তাকানোর সময় কাক লক্ষ করল, নুড়িগুলো সব এক মাপের নয়। বড় পাথর তুলতে কষ্ট হবে, আবার খুব ছোট বালুকণায় কাজ এগোবে ধীরে। সে ঠোঁটে ধরার মতো কয়েকটি ছোট নুড়ি বেছে নিল। হাতের কাছে থাকা জিনিসও কাজে লাগাতে হলে তার উপযোগিতাটুকু বুঝে নেওয়া দরকার।

তার মাথায় একটি বুদ্ধি এল। ঠোঁটে একটি নুড়ি তুলে কলসির ভেতর ফেলল। তারপর আরেকটি। পানির ওপর ছোট ছোট ঢেউ উঠল। কাক খেয়াল করল, নুড়ি জমতে থাকলে পানির স্তরও একটু একটু ওপরে উঠছে। এবার সে আরও মন দিয়ে কাজ করতে লাগল।

প্রথম কয়েকটি নুড়িতে খুব বেশি পরিবর্তন দেখা গেল না। কাক চাইলে তখনই ভাবতে পারত, বুদ্ধিটা কাজে লাগছে না। কিন্তু সে আগের পানির দাগের সঙ্গে নতুন স্তর তুলনা করল। অল্প হলেও পানি উঠেছে। সেই ছোট প্রমাণটুকুই পরের নুড়ি তোলার উৎসাহ দিল তাকে।

অনেকক্ষণ কাজ করার পর সে মাঝেমধ্যে কলসির পাশে বসে শ্বাস নিল। বিশ্রাম মানেই কাজ ছেড়ে দেওয়া নয়। শক্তি ফিরে পেলে আবার নুড়ি আনতে লাগল। তার কাছে এখন শুধু পানির প্রয়োজন নয়, সমাধানের পথটিও পরিষ্কার। তাড়াহুড়া কমিয়ে ঠিক কাজটি চালিয়ে যাওয়ায় সে মন দিল।

কাজটি দ্রুত হলো না। কাককে বারবার নিচে নামতে হলো, উপযুক্ত ছোট পাথর বেছে নিতে হলো, আবার কলসির মুখে ফিরতে হলো। তবু প্রতিটি নুড়ির সঙ্গে তার লক্ষ্যও একটু একটু কাছে এল। একসময় পানি ঠোঁটের নাগালে উঠে গেল।

কাক তৃপ্তি করে পানি খেল। তারপর গাছের ডালে বসে বিশ্রাম নিল। কলসির ভার কমেনি, তার ঠোঁটও লম্বা হয়নি। বদলেছিল সমস্যা দেখার পদ্ধতি। চারপাশের সাধারণ জিনিস কাজে লাগিয়ে, ছোট ছোট ধাপে এগিয়ে সে নিজের প্রয়োজন মিটিয়েছে।

এই গল্পের শিক্ষা

সমস্যায় থেমে ভেবে দেখো। ছোট ছোট কার্যকর পদক্ষেপ বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

একটু ভেবে দেখি

কঠিন কোনো কাজকে ছোট ধাপে ভাগ করে তুমি কীভাবে শুরু করতে পারো?

প্রচলিত ঈশপের নীতিগল্পের নিজস্ব বাংলা পুনর্কথন।

গল্পের পাতায় অন্তত ১০ সেকেন্ড থাকলে পড়া হিসেবে গণনা হয়। একই ব্রাউজারে ৩০ মিনিটে একবার। এই ফিচার চালুর পর থেকে হিসাব।