গল্পে চলে যাই
✳ আমার শৈশব
নীতিগল্প৪ মিনিট পড়া১ বার পড়া হয়েছে

রাখাল ও মিথ্যা বাঘের ডাক

মজা করে ডাকা সাহায্যের শব্দ একসময় সত্যি হয়ে উঠল। কিন্তু বিশ্বাস ফিরল না সহজে।

এই গল্পের শিক্ষা ↓

এক গ্রামের পাশে সবুজ মাঠে ভেড়া চরাত এক রাখাল। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মাঠে একা থাকতে তার বিরক্ত লাগত। গ্রামের মানুষেরা কাছের জমিতে কাজ করত। প্রয়োজন হলে চিৎকার করে তাদের ডাকতে পারত সে।

রাখালের একা লাগার কথা সত্যি ছিল। দুপুরে কথা বলার কেউ থাকত না, একই মাঠে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটত। সে চাইলে কাজ শেষে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে পারত, কিংবা গ্রামের কাউকে নিজের বিরক্তির কথা বলতে পারত। কিন্তু মনোযোগ পাওয়ার সহজ পথ খুঁজতে গিয়ে সে অন্যের ভয়কে খেলায় পরিণত করল।

একদিন মজা করার ইচ্ছা হলো রাখালের। মাঠে কোনো বিপদ না থাকলেও সে চিৎকার করে বাঘ এসেছে বলে ডাকল। গ্রামের লোকেরা কাজ ফেলে লাঠি হাতে ছুটে এল। এসে দেখল, ভেড়াগুলো নিশ্চিন্তে ঘাস খাচ্ছে। রাখাল হাসছে। তাকে সাবধান করে সবাই কাজে ফিরে গেল।

সেদিন যারা ছুটে এসেছিল, তাদের কারও জমিতে সেচের কাজ চলছিল, কেউ বাড়ির প্রয়োজনীয় কাজ ফেলে এসেছিল। রাখালের হাসি দেখে তারা শুধু বিরক্ত হয়নি; মনে কষ্টও পেয়েছিল। সাহায্য করার জন্য যে আন্তরিকতা নিয়ে এসেছিল, সেটিকে তামাশা করা হয়েছে। রাখাল তখনো এই অদেখা ক্ষতিটুকু বুঝতে পারেনি।

কিছু দিন পরে রাখাল আবার একই কাজ করল। এবারও সাহায্যের ডাক শুনে কয়েকজন ছুটে এল। বিপদ না দেখে তারা বিরক্ত হলো। একজন বলল, মানুষের ভয় আর সহায়তার ইচ্ছা নিয়ে খেলা করা ঠিক নয়। সত্যিকারের বিপদে এমন ডাকের গুরুত্ব আছে।

একজন বয়স্ক চাষি তাকে পাশে ডেকে শান্তভাবে কথা বললেন। বললেন, বিপদের ডাক শুনে মানুষ আগে তোমাকে বাঁচানোর কথা ভাবে, নিজের কাজের কথা পরে। এমন ডাকের ওপর ভরসা না থাকলে সত্যিকারের বিপদও বুঝতে দেরি হয়। রাখাল মাথা নাড়ল, কিন্তু নিজের কাজের ফল নিয়ে তখনো গভীরভাবে ভাবল না।

রাখাল কথাটি তখন গুরুত্ব দিল না। মনে হলো, একটু হাসিঠাট্টাই তো করেছে। কিন্তু গ্রামের মানুষের মনে তার কথা নিয়ে সন্দেহ জমে গেল। প্রয়োজনের সময় যাকে বিশ্বাস করা যায়, তার কথা তারা শুনত; রাখালের ডাক শুনলে এখন আগে ভাবত, আবার মজা করছে কি না।

বিশ্বাস নষ্ট হওয়ার শব্দ শোনা যায় না। কারও সামনে দরজা বন্ধ হয় না, তবু কথার গুরুত্ব একটু একটু কমে যায়। রাখাল পরের দিনও মাঠে গেল, গ্রামের মানুষেরাও কাজে গেল। বাইরে থেকে সব আগের মতোই ছিল। শুধু তার ডাকে ছুটে আসার যে নিশ্চয়তা ছিল, সেটি আর আগের জায়গায় রইল না।

এক বিকেলে সত্যিই বনের দিক থেকে বাঘ এসে পড়ল। ভেড়াগুলো ছুটোছুটি শুরু করল। রাখাল প্রাণপণে সাহায্য চাইল। দূর থেকে ডাক শুনেও অনেকে ভাবল, সে আবার আগের কাণ্ড করছে। কয়েকজন যখন অবশেষে দেখতে এল, ততক্ষণে পালের অনেক ভেড়া ছড়িয়ে পড়েছে, কয়েকটি হারিয়েও গেছে।

বিপদের দিনে রাখালের ভয়টি ছিল সত্যি। আগের ভুলের জন্য তার কষ্ট কম সত্যি হয়ে যায়নি। গ্রামের মানুষ পরে এসে তাকে নিরাপদে সরাল, পালের ভেড়া গুনল এবং খোঁজার কাজে নেমে পড়ল। তাকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য বিপদে ফেলে রাখার কথা তারা ভাবেনি। তবে দেরির ক্ষতিটি আর পুরোপুরি ফেরানো গেল না।

রাখাল এবার নিজের ভুল বুঝল। সে সবার কাছে ক্ষমা চাইল এবং হারানো ভেড়া খোঁজায় হাত লাগাল। গ্রামের মানুষও তাকে সাহায্য করল, কিন্তু হারানো বিশ্বাস ফিরে আসতে সময় লাগল। পরে সে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে শিখল। শুধু কথা দিলেই বিশ্বাস ফেরে না; কাজেও তা দেখাতে হয়।

এই গল্পের শিক্ষা

মিথ্যা বিপদের ডাক বিশ্বাস নষ্ট করে। ভুল হলে স্বীকার করে দায়িত্ব নেওয়াও জরুরি।

একটু ভেবে দেখি

বিশ্বাস নষ্ট হলে শুধু ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি আর কী করা দরকার?

প্রচলিত মিথ্যাবাদী রাখালের নীতিগল্পের বাংলায় প্রচলিত রূপ অবলম্বনে পুনর্কথন।

গল্পের পাতায় অন্তত ১০ সেকেন্ড থাকলে পড়া হিসেবে গণনা হয়। একই ব্রাউজারে ৩০ মিনিটে একবার। এই ফিচার চালুর পর থেকে হিসাব।